বাজার বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্টরা চলমান এ পরিস্থিতিকে ‘সুপার-স্কুইজ’ বা তীব্র সরবরাহ সংকট হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাদের মতে, এ চরম অবস্থার কারণে আগামী কয়েক বছর পর্যন্ত শিল্প ধাতুর দাম চড়া থাকতে পারে। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
বাজারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তামার দাম এখন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। অ্যালুমিনিয়ামের দামও বেড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, জ্বালানি তেলের বাজারে বৈশ্বিক সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও শিল্প ধাতুর বাজার থেকেই ঘাটতির আশঙ্কা ছিল। চলমান যুদ্ধ সে সংকটকে আরো বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক ধাতু সরবরাহ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি যুদ্ধ পরোক্ষভাবে বিশ্বজুড়ে খনি কোম্পানিগুলোর পরিচালন ব্যয়ও বাড়িয়ে দিয়েছে।
অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭২ থেকে বেড়ে ৯০ ডলারের আশপাশে অবস্থান করছে। ফলে খনিতে ব্যবহৃত ভারী যন্ত্রপাতি চালানোর জন্য ডিজেলের খরচ অনেক বেড়েছে। এছাড়া তেল শোধনের উপজাত সালফারের দাম দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।
গবেষণা প্রতিষ্ঠান উড ম্যাকেঞ্জি জানিয়েছে, এ সংকটের কারণে কঙ্গোয় প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টন তামা উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। বিনিয়োগ ব্যাংক মরগান স্ট্যানলি সতর্ক করেছে, চিলিতেও আরো দুই লাখ টন তামা উৎপাদন ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় মার্কিন ব্যাংক গোল্ডম্যান স্যাকস প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বাজারে ৬০ হাজার টন তামার ঘাটতির পূর্বাভাস দিলেও বর্তমান সংকটে তা বাড়িয়ে ৬ লাখ ৪০ হাজার টন করেছে। বছরের শেষ নাগাদ তামার দাম ১০ শতাংশ বাড়িয়ে প্রতি টনের মূল্য ১৩ হাজার ৭৩৫ ডলার হতে পারে বলে ধারণা করছে ব্যাংকটি।
অন্যদিকে বিশ্বের মোট পরিশোধিত অ্যালুমিনিয়ামের প্রায় ১০ শতাংশ উৎপাদন হয় মধ্যপ্রাচ্যে। সাম্প্রতিক হামলায় অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এবং কাঁচামাল আমদানিতে বাধা পাওয়ায় এ অঞ্চলের প্রধান উৎপাদকরা উৎপাদন কমাতে বাধ্য হয়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, এবারের মূল্যবৃদ্ধি মূলত বড় ধরনের সরবরাহ ঘাটতির কারণে ঘটছে। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দা ডেকে আনতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।